দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নিয়োগ-২০২০-এর অবশিষ্ট চারটি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে সারাদেশে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও চাকরিপ্রার্থীরা।
রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. জোবায়ের আহমেদ। একই দাবিতে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের সদস্য সচিব জাকারিয়া। চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্মারকলিপি দেন সংগঠনের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস ও হাজেরা খাতুন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় সংগঠনের প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্মারকলিপি দেন। তাঁদের মধ্যে ঢাকায় ফিরোজ আল মামুন, চট্টগ্রামে রাইসুল, হাফসা, শহিদুল ও জুলফিকার, রাজশাহীতে আতিকুর রহমান সরকার, খুলনায় সাইফুল ইসলাম ও জহির আলম হাওলাদার, বরিশালে ইবনে হাসান তুষার, সিলেটে মওদুদ হাসান চৌধুরী, ময়মনসিংহে খাইরুল ও আজহারুল ইসলাম, বগুড়ায় রাসেল মিয়া, কুমিল্লায় মেরাজুল মেরাজ, মাগুরায় নাজমুল আলম, জয়পুরহাটে মো. রাসেল, ফরিদপুরে হাসিবুল হাসান শান্ত, মুন্সীগঞ্জে আহসান হাবিব, কুড়িগ্রামে আব্দুর রাজ্জাক, নীলফামারীতে মো. জাকারিয়া, সিরাজগঞ্জে নাসির উদ্দিন, ঠাকুরগাঁওয়ে দেলোয়ার হোসেন ও কাদের, নাটোরে নিবাস কুমার মাহাতো, কুষ্টিয়ায় আবু ওবায়েদ, গাইবান্ধায় দীপক কুমার মহন্ত ও আকতারা খাতুন, কক্সবাজারে সাদ্দাম হোসেন, নারায়ণগঞ্জে সেলিম রেজা, পাবনায় আবদুল আলিম, যশোরে পরিমল কুমার, শেরপুরে নুর মোহাম্মদ এবং দিনাজপুরে অমলেশ অধিকারী অমলসহ বিভিন্ন জেলার ফলাফল প্রত্যাশীরা স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অবশিষ্ট চারটি ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
প্রার্থীদের দাবি, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ২৮টি ক্যাটাগরির মধ্যে ২৪টি ক্যাটাগরির ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও অবশিষ্ট চারটি ক্যাটাগরির ফলাফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকায় অনেক প্রার্থীর চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়েছে। এতে তাঁরা হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে ঢাকায় মাউশির প্রধান কার্যালয়ের সামনে একাধিকবার আন্দোলন, অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। দাবি আদায়ে ২০২৫ সালের ১৭ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তাঁরা আমরণ অনশন কর্মসূচিও পালন করেন। এ সময় আন্দোলনরত প্রার্থীদের ওপর লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটেছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
পরে ২৯ জুন ২০২৫ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা ও দুর্ভোগের বিষয়টি গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তাঁরা।
প্রার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগের কোটা-সংক্রান্ত জটিলতা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নিরসন হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এদিকে সংগঠনটির মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস জানান, চলতি বছর শিক্ষা সচিব তাঁদের জানিয়েছেন, মাউশির মহাপরিচালককে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে ফলাফল প্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হলেও এখনো ফল প্রকাশ না হওয়ায় তাঁরা উদ্বেগ ও হতাশায় রয়েছেন।
এর আগে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেন ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশীরা।
ঐক্য পরিষদের নেতারা জানান, দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় প্রার্থীরা আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। তাঁদের অনেকের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও পেরিয়ে গেছে। তাঁরা কোনো বিশেষ সুবিধা চান না; নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে অবশিষ্ট পদগুলোর চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের দাবি জানাচ্ছেন।
এমএস/